ঢাকা,২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটরদের গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন গ্রামীণ জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ———— এম কাজী এমদাদুল ইসলাম

received_3485726768149750.jpeg

সাহেদ আহমদ ঃ ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, ইউএনডিপি এবং বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প এর আওতায় জেলা প্রশাসন, সিলেট গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটরদের ৩ দিনব্যাপী গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গতকাল ৫ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় বন্দরবাজারস্থ একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, সরকার গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী ও অধিকতর কার্যকর করে তৃণমূলের দোরগড়ায় বিচারিক সেবা পৌছেঁ দিতে সারা দেশে গ্রাম আদালতের পেশকারের দায়িত্ব পালন করার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একজন করে হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এর ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসন, সিলেট এজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একজন করে হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ সম্পন্ন করেছে। গ্রাম আদালত পরিচালনায় তাদের জ্ঞান-দক্ষতা বৃদ্ধি করে উপযুক্ত করে তুলতে গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩), গ্রাম আদালত বিধিমালা ২০১৬, আনুষাঙ্গিক অন্যান্য আইন ও প্রশাসনিক বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণের কোর্স পরিচালক হিসেবে সিলেটের জেলা প্রশাসক আরো বলেন, গ্রাম আদালত কার্যকরীকরণের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিস্পত্তি ও গ্রাম পর্যায়ে শান্তি-শৃংখলা নিশ্চিত করা সম্ভব। গ্রামীণ জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকটি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে জেলা প্রশাসকবৃন্দের প্রতি নির্দেশনায় গ্রাম আদালতকে সক্রিয়করণের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাই আমাদের প্রত্যেকে স্বল্প খরচে ও স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার পাশাপাশি নিম্ন আদালতের দীর্ঘ মামলার জট কমানোর জন্য গ্রাম আদালতকে আরো কার্যকর করতে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটররা গ্রাম আদালতের পেশকারের দায়িত্ব পালন করে জনগুরুত্বপূর্ণ গ্রাম আদালত সেবাকে আরও কার্যকরভাবে প্রদান সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিলেটের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এর সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রশিক্ষণে বালাগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১৮জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। এতে জেলা প্রশিক্ষণ পুলের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন অধিবেশন পরিচালনা করেন সিলেটের সিনিয়র সহকারী জজ ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মোঃ মামুনুর রহমান ছিদ্দিকী, এসএমপি’র সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের জেলা ফ্যাসিলিটেটর খন্দকার রবিউল আউয়াল নাসিম।
সভাপতির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, গ্রামে অনেক ছোট খাটো অপরাধ সংঘটনের ঘটনা ঘটলেও সাধারণ মানুষ তার প্রতিকার চাইতে থানা বা জেলা আদালতে আসেন যাতে অনেক সময় ও অর্থের অপচয় হয়। সাধারণ মানুষের দোরগড়ায় ন্যায় বিচার পৌঁছে দিতে কার্যকর গ্রাম আদালত সরকারের এক অনন্য সেবা। দিন দিন সাধোরণ মানুষের মধ্যে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এ প্রকল্প স্থানীয়ভাবে সহজে, কম খরচে, দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং অন্যায়ের প্রতিকার লাভের লক্ষ্যে তৃণমূলের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষত: নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। প্রকল্পটি বর্তমানে এর ২য় পর্যায়ে দেশের ২৭ জেলার ১২৮ উপজেলার ১,০৮০টি ইউনিয়নে প্রায় ২ কোটি গ্রামীণ জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য কাজ করছে। এছাড়াও প্রকল্পটি এর ১ম পর্যায়ে দেশের ৬টি বিভাগের (ঢাকা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট) ৩৫১টি ইউনিয়নে ২৫ লাখের ও বেশি স্থানীয় লোকজনকে (যার মধ্যে ১৯,৫৩,০০০জন নারী) বিচারিক সুবিধা পেতে সাহায্য করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top