ঢাকা,২৮শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ন্যায় ও ইনসাফের মূর্ত প্রতীক ছিলেন মফিজুর রহমান ভুঞা স্যার : তারেক হাসান চৌধুরী

received_872890233273409.jpeg

যেই ঘুম ভাঙ্গে নাকো কোনদিন ঘুমাতে ঘুমাতে,শ্বাশত সুন্দর চীরশান্তির সেই অমোঘ ঘুমে বড় অবেলায় ঘুমিয়ে পড়লেন ভুঞা স্যার!

আমরা হারিয়েছি জ্ঞান সমুদ্রের এক বীর ডুবুরিকে,স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন ৯ মার্চ রাত ১ ঘটিকার সময় এটা ভাবতে অনেকটা অবাক লাগে, আজোও লেখা পড়ার টেবিলে বসলে নিজের অজান্তে চোখে পানি চলে আসে, তখন পড়তে আর ভালো লাগে না,
আহ!কি পেয়েছি কি হারিয়েছি আমাদের মফিজুর রহমান ভুঞা স্যার এতো কাছের মানুষ,উন্নত চরিত্র ও নীতি নৈতিকতা সম্পন্ন ক’জনই বা মিলে আজকের এ সমাজে।
সত্যি, স্যার ছিলেন আমাদের সকলের প্রিয়ও আপনজন। নিজ সন্তানের মতো আদর সোহাগে গড়ে তুলতে চেয়েছেন।
স্যার,স্যারই স্যারের উদাহরণ স্যার নিজেই। আজোও স্যার নিয়ে লিখতে চোখে পানি এসে গেছে হাত কাঁপতেছে।
আহ! আমাদের স্যার,
স্যার যতক্ষণ ক্লাসে থাকতেন ততক্ষণ আমার কাছে মনে হতো জ্ঞান সমুদ্রের এক মহানায়ক ঘন্টার পর ঘন্টা থাকলে বিরক্ত লাগবে না।
সত্যি স্যারের মুখ থেকে মনি মুক্তা,প্রবালের মতো শুধু মুল্যবান কথামালাও উপদেশ বাণী ঝরতো।কেমন স্যার যাঁরা স্যারের সাহচর্যে এসেছে তাঁরাই বুঝতে পেরেছে কি ধন হারিয়েছে ওরা।
ল’কলেজ ক্যাম্পাসে গেলে আজ আর তেমন ভালো লাগেনা সর্বত্র সৃতিচারণ হয়,স্যার ঢাকায় তাঁর কর্মস্হলে চলে গেলেও স্যার থাকতেন আমাদের চিন্তা চেতনায়।
স্যার,বেচে থাকলে তাঁকে মেহমান হিসেবে নিয়ে আসতাম সেমিনার সিম্পোজিয়াম ও আলোচনা সভায়। তিনি তো চলে গেছেন,আল্লাহর মেহমান হয়ে আল্লাহর দরবারে। তার জীবন ছিল পুতঃপবিত্র, সুন্দর পরিচ্ছন্ন ও আলোকিত এমন মানুষ সমাজে দু-চার জনই মিলে।
স্যার, জীবনে কখনো অখাদ্য, কুখাদ্য, ময়লাযুক্ত হাদিয়া উপহার নেননি তিনি জানতেন, এগুলো হাদিয়া তোহফা নয়,এগুলো নিজের উপর প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার। এজন্য তিনি এগুলো গ্রহণ করেননি।তিনি ছিলেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ বিচারের টেবিলে তিনি ছিলেন সম্পুর্ন প্রভাবমুক্ত,কোন অন্যায় তার কাছে ঘেষতোনা।ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে তার কলম ছিল অপ্রতিরোধ্য।
আহ!এমন মানুষ আর ফিরে আসবে না,ইয়া আল্লাহ আমাদের সকলের প্রিয় স্যারকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করুন। সর্বশেষ স্যার চলে গেলেন বিশাল দায়িত্ব নিয়ে নতুন কর্মস্হলে। দুদকের লিগ্যাল ও প্রসিকিশনের মহাপরিচালক এর দায়িত্ব নিয়ে। কিন্তু সেখানে বেশিদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি।
স্যার,বেঁচে থাকলে প্রধান বিচারপতির চেয়ার অলংকৃত করতেন, আমাদের প্রত্যাশা তাই ছিল।
স্যার,আমাদের চিন্তা চেতনায় প্রভাব বিস্তারের মুল কারণ হলো স্যার এর আমল আখলাক চরিত্র পরধর্ম সহিষ্ণু জ্ঞান রাজ্য ছিল উন্নত ও গভীর।
আমি আমার দাদা সাবেক জনপ্রতিনিধি ও কলেজ শিক্ষক মোবারক চৌধুরীকে দেখিনি, কিন্তু আমাদের স্যারের মাঝে দাদার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।
পরকালে ভালো থাকুন স্যার এই কামনা অনিঃশেষ শ্রদ্ধায়।
লেখকঃতারেক হাসান চৌধুরী
ছাত্রঃসিলেট ল’কলেজ
তাঃ০৯/০৪/২০২১ইং
শুক্রবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top