ঢাকা,১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও রাসুল (স.)এর প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রামের অনুপ্রেরণাই ঐতিহাসিক বদর দিবস। –মুহাম্মদ মামুন রশিদ

আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও রাসুল (স.)এর প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রামের অনুপ্রেরণাই ঐতিহাসিক বদর দিবস।
–মুহাম্মদ মামুন রশিদ

হিজরতের পর মদিনায় ইসলামের দূর প্রতিষ্টা ও প্রসার ,হজরত মুহাম্মদ(সঃ) এর প্রভাব প্রতিপত্তি ও কর্মকান্ডে সাফল্য লাভ এবং মদিনায় ইসলামি শাসন ব্যাবস্থা প্রতিষ্টা হওয়ায় মক্কার কুরাইশদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তুসের সৃষ্টি হয়।এই ক্ষোভ ও অসন্তুসের রেখাপাত থেকেই পৌত্তলিক মক্কাবাসী ও মহানবী স.এর সাথে প্রথম যে সংঘর্ষ হয় ইসলামের ইতিহাসে তা গাজওয়ায়ে বদর বা বদর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
মদিনা থেকে ৮০মাইল দক্ষিন-পশ্চিমে অবস্থিত,বদর নামক উপত্যকায় ৬২৪খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই মার্চ (১৭ ই রামাদ্বান দ্বিতীয় হিজরির জুমাবার)মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে কুরাইশদের সংঘর্ষ ঘটে।আনসার ও মুহাজির নিয়ে গঠিত মাত্র ৩১৩ জনের একটি মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে মোকাবেলা করার জন্য স্বয়ং রাসুল স.নেতৃত্ব প্রদান করেন।প্রতিকূল অবস্থায় সংঘবদ্ধ ও সুশৃংখল মুসলিম বাহিনীর মোকাবেলা করা কুরাইশদের পক্ষে সম্ভব হয় নি।অসামান্য রণ-নৈপূন্য,অপরিসীম নিয়মানুবর্তিতার সঙ্গে যুদ্ধ করে মুসলমানরা বিশাল কুরাইশ বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন।এ যুদ্ধে ঈমানি চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ।আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও রাসুল স.এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য থাকায় আল্লাহ হাজার হাজার ফেরেস্তা দিয়ে মুসলিম বাহিনীকে সাহায্য করেন।এ যুদ্ধে ৭০জন কাফের নিহত হয় এবং সমসংখ্যক কাফের বন্দি হয়।অপরদিকে মাত্র ১৪জন মুসলিম সৈন্য শাহাদাত বরন করেন।হজরত মুহাম্মদ(সঃ) যুদ্ধ বন্দিদের প্রতি যে উদার ও মধুর ব্যবহার দেখিয়েছেন তা তাঁর মহানুভবতার পরিচয় বহন করে।কুরাইশি বিশাল বাহিনী মাত্র কয়েকজন মুসলিম সৈন্যের নিকট শোচনীয় পরাজয় অমুসলিমদের মনে ভীতির সঞ্চার করে এবং মুসলমানদের ঈমান দ্বীপ্ত ও ভবিষ্যতে যুদ্ধ জয়ের দুর্বার আকাংঙ্খা সৃষ্টি হয়।এ যুদ্ধে আল্লাহ মুসলমানদের বহুভাবে সাহায্য করেন।বদর যুদ্ধে মুসলমানদের সাহায্যের কথা কুরআনে উল্লেখ করে বলেন-স্বরন করুন ঐদিনের কথা ,যখন তিনি তোমাদের উপর তাঁর পক্ষ থেকে তন্দ্রাচন্নতা আরোপ করেছিলেন।তোমাদের প্রশান্তির জন্য তোমাদের উপর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলেন।যাতে তোমাদের পবিত্র করে দেন এবং যাতে তোমাদের থেকে অপসারিত করে দেন শয়তানের অপবিত্রতা ।আর যাতে সুরক্ষিত করে দিতে পারেন তোমাদের অন্তর সমূহকে এবং সুদূর করে দিতে পারেন তোমাদের পা গুলোকে।[সূরা আনফাল:১১]আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা এবং মুহাম্মদ(সঃ) এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য থাকলে আল্লাহর পক্ষ থেকে অশেষ দয়া পাওয়া যায়।যার প্রমাণ বদরের যুদ্ধ ।এ যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সপ্রসারণের সূচনা করে এবং পরবর্তী একশ বছরের মধ্যে ইসলাম পশ্চিমে আফ্রিকা হতে পূর্বে ভারতবর্ষ ও মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে।এ যুদ্ধ ইসলামের ইতিহাসে এক আলোকবর্তিকা।ঈমানি চেতনায় উজ্জিবিত হয়ে যে কোন কাজে অগ্রসর হলে সফলতা অর্জন করা সম্ভব তা বদর যুদ্ধ প্রমাণ করে।শৃংণ্খলা ও মৃত্যুর প্রতি অবহেলার শিক্ষা দেয় এ যুদ্ধ ।নেতার আনুগত্য থাকলে সফলতা পদচুম্বন করে তা বদর যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত ।এ যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন এবং কাফেরদের সংখ্যা ছিল তিনগুন।মুসলমানদের না ছিল সাজসরঞ্জাম না ছিল যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ।তারপরও কাফেরদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজয় করা ঈমানি চেতনার বহিঃপ্রকাশ।আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও রাসুল স.এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য থাকায় মুসলমানদের বিজয় অর্জিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top

সম্পাদক ও প্রকাশক: এড: মোঃ আব্দুল্লাহ আল হেলাল 01726840304

নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল হামিদ
বার্তা সম্পাদক: মুতিউর রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: সাহেদ আহমদ
উপ-সম্পাদক: ইয়াছিন আলী
উপ-সম্পাদক: ওয়াহিদ মাহমুদ

লেভেল-২, সুরমা টাওয়ার, তালতলা, সিলেট-৩১০০।
০১৭২৬-৮৪০৩০৪
news.sylhetdiganta@gmail.com