ঢাকা,২৯শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আইন ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে : আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

FB_IMG_1638327667683.jpg

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আইন ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর।

কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশ পাঠাতে সরকার টালবাহানা করছে। অথচ তারাই ক্ষমতায় থাকতে আইন ও মানবাধিকারকে গলাটিপে হত্যা করেছে। মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, দেশে খুন, গুম ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর রাজত্বে পরিনত করেছে। এমন সরকারের মুখে আইন ও মানবাধিকার বুলি মানায় না। অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে স্থায়ী মুক্তি দিন ও বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় কঠোর পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সরকার বলে বেগম খালেদা জিয়া নাকি মুক্ত, তাইলে মুক্ত মানুষের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বাধাঁ কোথায়? এর জবাব তারা দিতে পারেনা। কারণ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। প্রথমেই আমাদের নেত্রীর স্থায়ী মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে বিদেশে চিকিৎসা ও গণতন্ত্রের মুক্তিও নিশ্চিত হবে। শুধু আইন আইন করবেন না। বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে আইনের এই বোঝা বইতে পারবেন না। ক্ষমতা বেশীদিন থাকবে না। বেগম খালেদা জিয়ার সাথে অন্যায় আচরণের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি মঙ্গলবার নগরীর ঐতিহাসিক রেজিষ্টারী মাঠে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

বেলা ২টায় শুরু হয় সমাবেশ সন্ধ্যা ৫টায় সমাপ্ত হয়। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের সুস্থতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন নয়াসড়ক মসজিদের ইমাম মাওলানা শামসুল ইসলাম।

সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকীর সভাপতিত্বে, সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল আহাদ খান জামালের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন ওলামা দলের সহ-সভাপতি মাওলানা জিল্লুর রহমান।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সুহেল, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদী লুনা, ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: সাখাওয়াত হাসান জীবন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, বিএনপির কেন্দ্রীয সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় সহ স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ডা: শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, কেন্দ্রীয় সদস্য নাসের রহমান, মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, মহানগর সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট আব্দুল গাফফার, মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির শাহীন, ফরহাদ চৌধুরী শামীম, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক কাউন্সিলার রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জিয়াউল গণি আরেফিন জিল্লুর, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নজিবুর রহমান নজিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট এ টি এম ফয়েজ উদ্দিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট রুকশানা বেগম শাহনাজ, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক সালেহ আহমদ খসরু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুবুল হক চৌধুরী, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক এ কে এম তারেক কালাম, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সুরমান আলী, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শহীদ আহমদ চেয়ারম্যান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মুনিম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ প্রমূখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আমি আইনের মানুষ। কোন আইনেই তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে বাধাঁ দেয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন মাফিক চিকিৎসা সেবা পাওয়া সকল নাগরিকের অধিকার। সরকার নিজেরাই আইন বহির্ভুতভাবে দিনের ভোট রাতে দিয়ে ক্ষমতায় ঠিকে আছে। আইন ও সংবিধান বহির্ভুতভাবে দেশ পরিচালনা করছে। বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য আইনী কোন বাধাঁ নেই। বাধা হচ্ছে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। তাই রাজনৈতিকভাবেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন একটি রাজনৈতিক গণ আন্দোলন।

যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সুহেল বলেন, আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসারের বিচারে বন্দী বেগম খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর মূখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আমাদের নেত্রী ভাল না থাকলে আমরা ভাল থাকিনা। কারণ সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে যায়। আর আমরা বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা যাই আদালতে। সুতরাং আমাদেরকে হামলা মামলা, জেল জুলুমের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। সময় থাকতে শুভ বুদ্ধির উদয় হলে ভাল। অন্যথায় সামনে কঠিন পরিনতি বরণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top